দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্য বা বিভেদের শিকার হতে হবে না।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সকাল ৬টার দিকে বনানী মাঠে পৌঁছালে মাহদী আমিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন আয়োজক সংগঠনের নেতারা। পরে সেখানে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, রাষ্ট্র, সমাজ ও সরকারের কাছ থেকে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা পাবেন। নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করাই সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।
তিনি বলেন, মহালয়া মানেই নতুন আশার আলো এবং অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়। অন্ধকারকে পেছনে ফেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এ উৎসবের মূল বার্তা।
মাহদী আমিন আরও বলেন, বনানী এমন একটি এলাকায় অবস্থিত, যা সংসদীয় আসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এলাকা। সবাই মিলে এমন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা ছাপিয়ে সবার একটাই পরিচয় হবে বাংলাদেশি।
তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচবেন এবং সমান মর্যাদা নিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় অংশ নেবেন। এমন মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেখানে বিদ্বেষের জায়গা নেবে ভালোবাসা, বৈষম্যের জায়গা নেবে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের জায়গা নেবে ঐক্য।
দুর্গাপূজার আয়োজন প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ সময় পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে পূজার সরকারি ছুটিও বাড়ানো হয়েছে। এ উৎসবের আনন্দ সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের মূল শক্তি এ দেশের জনগণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয়ই দেশের চালিকাশক্তি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়। এ কারণেই সরকারের স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সনাতনী সমাজের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ ও শারদীয় দুর্গোৎসবের সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা ও সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়সহ অন্যরা।
যে আই